বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে থুশারা

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 5 ঘন্টা আগে আপডেট: 22 মিনিট আগে
বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে থুশারা

বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে থুশারা

বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে থুশারা

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রশ্নটিই এখন আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে। জাতীয় দলের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া এক ক্রিকেটারের পেশাগত স্বাধীনতা বনাম বোর্ডের নীতিমালার দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশটির ক্রিকেট প্রশাসন।

শ্রীলঙ্কার পেসার নুয়ান থুশারা আইপিএলে খেলতে না পারার পরিপ্রেক্ষিতে কলম্বো জেলা আদালতে মামলা করেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে। নতুন ও কঠোর ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাকে আইপিএলে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়নি, যা এই বিরোধের মূল কারণ।

নিজের আইনি যুক্তিতে থুশারা উল্লেখ করেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং এরপর তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে বোর্ডের পক্ষ থেকে এনওসি আটকে দেওয়া তার পেশাগত আয়ের পথে বাধা তৈরি করছে বলে দাবি তার। যদিও তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর স্কোয়াডে ছিলেন, এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তার এবারের আইপিএলে খেলা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মামলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের শীর্ষ চার কর্মকর্তা সভাপতি শাম্মি সিলভা, সম্পাদক বান্দুলা দিসানায়েকে, কোষাধ্যক্ষ সুজেওয়া গোদালিয়াদ্দা এবং সিইও অ্যাশলি ডি সিলভাকে বিবাদী করা হয়েছে। আদালত আগামী ৯ এপ্রিল পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেছে। তবে ইস্টার ছুটির কারণে আদালত বন্ধ থাকায় এবং একাধিক শুনানির সম্ভাবনা থাকায়, অন্তত আরও দুই সপ্তাহ আইপিএল থেকে বাইরে থাকতে হচ্ছে থুশারাকে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি লিগে খেলতে হলে নিজ দেশের বোর্ডের এনওসি বাধ্যতামূলক। তবে এই অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে প্রতিটি বোর্ড নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা পায়। এর আগে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি লিগে অংশগ্রহণের সীমা দেখিয়েও এনওসি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে এবার মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে কোনো খেলোয়াড় কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে চলে যাওয়ার পরও বোর্ড কি তার ওপর একই নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে? আইনি নথি অনুযায়ী, ২৪ মার্চ থুশারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে তাকে এনওসি দেওয়া হবে না। এর আগে ১৫ ও ২৩ মার্চ তিনি লিখিত ও মৌখিকভাবে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। ২৮ মার্চের পর তার অনুরোধের বিষয়ে বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, অনানুষ্ঠানিকভাবে আবারও না পাওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছেন তিনি।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে নতুন বাধ্যতামূলক ফিটনেস মানদণ্ড। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সাবেক পেসার প্রমোদয়া বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচক কমিটি এই কঠোর নিয়ম চালু করে।

নতুন ফিটনেস পরীক্ষায় রয়েছে পাঁচটি ধাপ ২ কিলোমিটার দৌড়, ২০ মিটার স্প্রিন্ট, ৫-০-৫ অ্যাজিলিটি টেস্ট, স্কিনফোল্ড টেস্ট এবং কাউন্টার মুভমেন্ট জাম্প। প্রতিটি পরীক্ষায় নির্দিষ্ট পয়েন্ট থাকলেও মোট ২৯ নম্বরের মধ্যে অন্তত ১৭ পেতে হয় নির্বাচনের জন্য। বিশেষ করে ২ কিলোমিটার দৌড় ও স্কিনফোল্ড টেস্টে কম নম্বর পেলে পাস করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে থুশারার দাবি, অতীতে এনওসি পাওয়ার ক্ষেত্রে এমন ফিটনেস মানদণ্ড কখনো বাধ্যতামূলক ছিল না। তার বর্তমান ফিটনেসও পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতোই রয়েছে, যখন ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি বোর্ডের কাছ থেকে এনওসি পেয়েছিলেন।

এই মামলাটি দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার তাবরেজ শামসির একটি সাম্প্রতিক আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে জয় পান, যেখানে আদালত রায় দেয় কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে বোর্ড নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে এনওসি আটকে রাখতে পারে না।

শামসির সেই রায় বিশ্ব ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা নিয়ে বড় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল। থুশারার মামলা সেই বিতর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে, যেখানে এখন প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় দলের বাইরে থাকা একজন খেলোয়াড়ের ওপর বোর্ডের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা প্রয়োগ করা কতটা আইনসম্মত।