কামিন্সের তিন উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রেখে দিন শেষ অস্ট্রেলিয়ার

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 16 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
কামিন্সের তিন উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রেখে দিন শেষ অস্ট্রেলিয়ার

কামিন্সের তিন উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রেখে দিন শেষ অস্ট্রেলিয়ার

কামিন্সের তিন উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রেখে দিন শেষ অস্ট্রেলিয়ার

প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের নৈপুণ্যে প্রথম ইনিংসে বড় লিড পেয়েছে সফরকারীরা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়া অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে। সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৩৯ রানে।

রোববার প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে নিক ম্যাডিনসন ১৭ ও ট্রাভিস হেড ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। আলোর স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এতে দিনটিতে প্রায় ১৩ ওভার খেলা সম্ভব হয়নি।

এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। একপর্যায়ে ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়লেও ম্যাট রেনশর ক্যারিয়ারসেরা ১৯০ রানের ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৮৪ রানে অলআউট হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কামিন্স ৫৪ রানে ৩টি উইকেট নেন। মিচেল স্টার্ক ৬৩, জশ হ্যাজলউড ৫৪ এবং নাথান লায়ন ৫৮ রান দিয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন ডেভিড বেডিংহাম। ৭৩ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি। একপর্যায়ে ১৯৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় ছিল স্বাগতিকরা। তবে নবম উইকেটে কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমারের ৫২ রানের জুটিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। মহারাজ ৩৪ রান করে আউট হলেও হারমার ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

দিনের শুরু থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর চাপ ধরে রাখে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনের ২৭ রানে ১ উইকেট নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে স্বাগতিকরা। আইডেন মার্করাম ও বেডিংহাম দ্বিতীয় উইকেটে আগের দিনের জুটির সঙ্গে আরও ৫৭ রান যোগ করেন। তবে ২১তম ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৭ রানে ফেরেন মার্করাম।

এরপর নাথান লায়নের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৩ রান। কামিন্সের শিকার হয়ে বেডিংহামও ফেরেন সাজঘরে। স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে আবারও দলের পক্ষে অবদান রাখেন স্মিথ।

মধ্যাহ্নবিরতির পর কামিন্সের আঘাতে আরও বিপাকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ট্রিস্টান স্টাবসের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি গড়ার পর ৩০ রান করে আউট হন উইয়ান মুল্ডার। ৫০ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি। কিছুক্ষণ পর কামিন্সের বলেই স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ৩২ রানে ফেরেন স্টাবস।

এরপর লায়নের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৩ রানে আউট হন কাইল ভেরেইনে। ফলে ১৯৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্কো ইয়ানসেন ২০ বলে ২৬ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

চায়ের বিরতির সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ২৩৮ রানে ৮ উইকেট। শেষ দিকে মহারাজ ও হারমারের ব্যাটে ফলোঅন এড়ানোর মতো অবস্থানে পৌঁছায় স্বাগতিকরা। তবে স্টার্কের বলে মহারাজ আউট হলে ভাঙে তাদের অর্ধশত রানের জুটি।

বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২৫ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল। ২০১৮ সালের বল টেম্পারিং বিতর্কের পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গেছে অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের প্রথম টেস্টে তৃতীয় দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার পথে এগিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।