সোবহানা মোস্তারির ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির দিনেও বড় হার বাংলাদেশের, সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সোবহানা মোস্তারির ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির দিনেও বড় হার বাংলাদেশের, সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

সোবহানা মোস্তারির ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির দিনেও বড় হার বাংলাদেশের, সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

সোবহানা মোস্তারির ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির দিনেও বড় হার বাংলাদেশের, সিরিজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

সোবহানা মোস্তারির অতিমানবিক ও ইতিহাসগড়া সেঞ্চুরিকেও শেষ পর্যন্ত বৃথা বানিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দল। জর্জিয়া ভলের বিধ্বংসী শতকে ভর করে স্বাগতিকেরা অত্যন্ত অনায়াসে সফরকারী বাংলাদেশকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাস্ত করেছে। ব্রিসবেনের মাটিতে অর্জিত এই একপেশে বিজয়ের সুবাদে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিজেদের করে নিল স্বাগতিক অজিরা।

টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মাত্র ৮ রান তুলতে তুলে হারিয়ে ফেলে ৩টি মূল্যবান উইকেট। ফারজানা হক ও শারমিন আক্তার রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন, আর শারমিন সুলতানার ব্যাট থেকে আসে মোটে ৫ রান। শুরুর সেই মড়ক সামাল দিতে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিকে সাথে নিয়ে লড়াই শুরু করেন সোবহানা মোস্তারি।

চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটারের গড়ে তোলা ১৯৫ রানের অসামান্য জুটিটি নারী ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড। দীর্ঘ এই ধকল সামলে মোস্তারি তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক, যা ১২৩ বল খেলে তিনি পূর্ণ করেন। দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন অঙ্কের জাদুকরী স্পর্শ পান এই ডানহাতি ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ১১৮ রানে তিনি থামলে, এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের নারীদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মর্যাদা লাভ করে।

বাংলাদেশের আগের তিনটি ওয়ানডে শতকের দুটি ফারজানা হকের এবং একটি নিগার সুলতানার হলেও, অজিদের বিপক্ষে মোস্তারির এই শতকটি সবচেয়ে আলাদা ও মর্যাদাপূর্ণ। কারণ, এর পূর্বে ক্যাঙ্গারুদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টাইগার নারীদের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল সাকুল্যে ২৯ যেখানে ফিফটিরই দেখা মেলেনি, সেখানে তাদের ঘরের মাটিতেই এসেছে এই মহাকাব্যিক ইনিংস। অন্যদিকে, অধিনায়ক নিগার ৭৪ রানে অপরাজিত থাকলে ৫০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২২০ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

তবে ২২১ রানের মাঝারি লক্ষ্যকে রান তাড়ায় একদম ছেলেখেলা বানিয়ে ফেলেন দুই অজি ওপেনার জর্জিয়া ভল ও ফিবি লিচফিল্ড। প্রথম ১০ ওভারেই বিনা উইকেটে ৮২ রান তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তারা। এই দুজন গড়ে তোলেন আগ্রাসী ভিত, যা ম্যাচের ইতি টেনে দেয় নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই।

২০তম ওভারে দলীয় ১৬২ রানের মাথায় ফিবি লিচফিল্ডকে স্বর্ণা আক্তারের ক্যাচে পরিণত করেন হাবিবা ইসলাম পিংকি। বিদায়ের আগে ১১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ বলে ঝোড়ো ৭০ রান করে যান লিচফিল্ড।

সঙ্গীর বিদায়েও থামেনি অজিদের বাউন্ডারির তাণ্ডব; ভল ৮১ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক পূর্ণ করে ম্যাচ শেষে ৯৭ বলে ১৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। সঙ্গে এলিস পেরির ২২ বলে ১৯ রানের কার্যকরী সহায়তায় ১৩১ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।