সিলেট ক্রিকেট আবার গল্প বলছে

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সিলেট ক্রিকেট আবার গল্প বলছে

সিলেট ক্রিকেট আবার গল্প বলছে

সিলেট ক্রিকেট আবার গল্প বলছে

একসময়ের গৌরব ফিরছে; তুষারের বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং মুশফিকের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে জিমখানা ক্লাব তুলে নিল শিরোপা এবং সিলেট লিগের মান ফেরালো নতুন উচ্চতায়।

একসময় সিলেট লিগ মানেই ছিল আলাদা এক আলো। ঢাকা লিগের বাইরেও যে কোনো টুর্নামেন্ট কীভাবে তারকা-সমৃদ্ধ হতে পারে, তার জীবন্ত উদাহরণ ছিল এই লিগ। সেই মাঠেই একদিন দাপট দেখিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুন রানাতুঙ্গা। খেলেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার রমন লম্বা, যিনি পরবর্তীতে ঢাকা লিগে হয়ে ওঠেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দেশের নামকরা ক্রিকেটারদের পদচারণায় সিলেট লিগ ছিল স্বপ্নের ঠিকানা এবং গর্বের মঞ্চ।

সময়ের চক্রে সেই জৌলুশ কিছুটা ম্লান হয়েছিল। তবে ইতিহাস জানে, সিলেট থেমে থাকার নাম নয়। পুরোনো গৌরব ফেরানোর সেই আকাঙ্ক্ষা এবার দৃশ্যমান হলো সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে। তার প্রতীক হয়ে মাঠে নামলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্ভরতার নাম মুশফিকুর রহিম।

রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লিগের শেষ ম্যাচ ছিল কার্যত অঘোষিত ফাইনাল। জিমখানা ক্লাব মুখোমুখি হয়েছিল বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্রের। ফলাফলের উপরই নির্ভর করছিল শিরোপা। এমন চাপের ম্যাচে অভিজ্ঞতার হাত ধরেই এগোতে চেয়েছিল জিমখানা। তাই মাঠে নামানো হয় মুশফিককে। জাতীয় দলের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার বুঝিয়েই দিলেন, বড় মঞ্চ তাঁর প্রিয় জায়গা।

৬৭ বলের অনবদ্য ইনিংসে মুশফিক করলেন ১০৩ রান। এতে ছিল ৫টি ছক্কা এবং ১০টি চার। কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে আলো কেড়ে নিলেন সিলেটের সন্তান তৌফিক খান তুষার। মাত্র ৪৫ বলেই শতক পূর্ণ করেন তিনি। ৬৭ বলেই পৌঁছে যান দেড়শতে এবং ৯২ বলেই স্পর্শ করেন দ্বিশতক। শেষ পর্যন্ত ৯৭ বলের ইনিংসে ২০৭ রান। এতে ছিল ৯টি চার এবং ২১টি ছক্কা। সিলেট লিগের ইতিহাসে এটি এক রূপকথার ইনিংস।

দ্বিতীয় উইকেটে আশরাফুল হক রিহাদের সঙ্গে ২১২ রানের জুটি গড়ে তুষার দেখালেন এটি কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, দলীয় আধিপত্যের গল্প। রিহাদ ৫৪ রান করেন।

৩৪তম ওভারে তুষারের বিদায়ের পরও ইনিংস থামেনি। মুশফিকের অভিজ্ঞ ব্যাটিংয়ে জিমখানাকে নিয়ে যান ৪৩৭ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ। ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে এমন সংগ্রহের সামনে বঙ্গবীরের বোলাররা কার্যত অসহায়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে অভিজ্ঞ অলক কাপালি এবং ইমতিয়াজ হোসাইন তান্নাদের লাইনআপ নিয়েও বঙ্গবীর ২৭ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় ১৭৬ রানে। ফলে ২৬৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় এবং শিরোপা জিমখানা ক্লাবের দখলে যায়।

এই ম্যাচ শুধু একটি শিরোপা নির্ধারণ করেনি। এটি ঘোষণা দিয়েছে যে সিলেট লিগ ফিরে এসেছে। ফিরছে তার ঐতিহ্য, আকর্ষণ এবং স্বপ্ন। যে লিগে একদিন খেলেছেন রানাতুঙ্গা এবং রমন লম্বারা, সেই লিগেই আজ শতক হাঁকান মুশফিক এবং ডাবল সেঞ্চুরি করেন তুষার।

সিলেট ক্রিকেট আবার গল্প বলছে এবং এই গল্পের পরের অধ্যায় আরও রোমাঞ্চকর হবে, তা এই একটি ম্যাচই প্রমাণ করেছে।