বিসিবি সংকট সামাল দিতে ফেরালেন সাকিব
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 5 দিন আগে আপডেট: 38 মিনিট আগে-
1
অ্যারেরন জোন্সকে আইসিসির সকল ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করল আইসিসি
-
2
পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দল ঘোষণা
-
3
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২২ রানে হারাল পাকিস্তান
-
4
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত
-
5
নির্ধারিত হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি
বিসিবি সংকট সামাল দিতে ফেরালেন সাকিব
বিসিবি সংকট সামাল দিতে ফেরালেন সাকিব
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সাকিব আল হাসানকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং দর্শক ও স্পন্সরের আগ্রহ রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বোর্ডের স্থিতিশীলতার প্রশ্ন তৈরি করেছে। সম্প্রতি ফিক্সিং সংক্রান্ত অভিযোগে একজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন এবং আরও কয়েকজন পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। বোর্ড সভায় পরিচালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং প্রায় হাতাহাতির ঘটনা সংবাদে এসেছে। একই সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। বড় দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ, দর্শক আগ্রহ এবং স্পন্সরশিপ সবই দলের পারফরম্যান্স এবং গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল।
এই প্রেক্ষাপটে বোর্ড মনে করছে, একজন অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত ক্রিকেটারের উপস্থিতি দেশের ক্রিকেটের ব্র্যান্ড রক্ষা এবং পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, “সাকিবের সঙ্গে সরকারের কী সমস্যা, আইন–আদালত নিয়ে সেটা সরকার দেখবে। কিন্তু আমরা বোর্ড থেকে সাকিব আল হাসানকে চেয়েছি। যেখানে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকা হবে, সেখানে আমরা সাকিব আল হাসানের নাম প্রপোজাল দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই সাকিবের অবদান সম্পর্কে জানি। ক্রিকেটের ব্র্যান্ড হিসেবে তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। আগামী একশ বছরেও সাকিবকে পাওয়া যাবে না। সেটার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বিসিবিতে আজকে উত্থাপিত হয়েছে সাকিবের ইস্যুটি।”
সাকিবের অবসর ভাবনা এবং দেশের ক্রিকেটের প্রতি দায়িত্ববোধও বোর্ডের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। আকবর জানান, “চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের তালিকা তৈরি হওয়ার সময়ে বোর্ডের একজন পরিচালক সাকিব আল হাসান বিষয়ে প্রস্তাব তুলেছেন। সাকিবের অবস্থান বাংলাদেশে, মানুষদের যে ভালোবাসা, সেই বিষয়গুলোও আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। আমি নিজে সাকিবকে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁর ইচ্ছা দেখার পর আমরা বোর্ডে আলোচনা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “সাকিব সংসদ সদস্য হওয়ার আগে বাংলাদেশের প্লেয়ার ছিল এবং অনেক জয়ের সাক্ষী। বাংলাদেশের রেকর্ডবুকে সাকিবের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা সেই দিক থেকে তাকে সম্মান দেখানোর জন্য এবং তাঁর আগ্রহকে সম্মান জানিয়ে সিদ্ধান্তটি নিয়েছি।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাকিবের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফেরানো শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় কারণে নয়। বোর্ডের ভাঙন এবং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় একজন সুপারস্টারের উপস্থিতি সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাকিবের অভিজ্ঞতা দর্শক আগ্রহ এবং স্পন্সরশিপ ধরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাকিব আল হাসানকে ফেরানো সিদ্ধান্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি হলেও এটি মূলত বোর্ডের সংকট মোকাবেলার কৌশল। একজন সুপারস্টারের উপস্থিতি মাঠের পারফরম্যান্স ও ব্র্যান্ড উভয় ক্ষেত্রেই সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে আরও স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
