সাজিদের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সিরিজ সমতায় পাকিস্তান থেকে মাত্র ৬০ রানের দূরত্বে

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সাজিদের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সিরিজ সমতায় পাকিস্তান থেকে মাত্র ৬০ রানের দূরত্বে

সাজিদের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সিরিজ সমতায় পাকিস্তান থেকে মাত্র ৬০ রানের দূরত্বে

সাজিদের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সিরিজ সমতায় পাকিস্তান থেকে মাত্র ৬০ রানের দূরত্বে

পাকিস্তানের স্পিনারদের দাপটে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে কঠিন চাপে পড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ত্রিনিদাদে ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১০৩ রান। ফলে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬০ রানে। হাতে আছে আর চার উইকেট, আর পাকিস্তান এখন সিরিজ সমতায় ফেরার খুব কাছাকাছি।

এর আগে আবদুল্লাহ শফিকের অপরাজিত ১৬০ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮৭ রান তোলে পাকিস্তান। এতে ৩৪৪ রানে অলআউট হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানের লিড নেয় সফরকারীরা।

দিনের শুরুতে পাকিস্তান ছিল ২ উইকেটে ২৬৬ রানে। বড় লিডের সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ আট উইকেট হারায় মাত্র ১০৬ রানে।

এই ধসের শুরুটা হয় অধিনায়ক বাবর আজমের রানআউট দিয়ে। আগের দিন ৮৬ রানে অপরাজিত থাকা বাবর এদিন মাত্র ২ রান যোগ করে একটি অসম্ভব সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রানআউট হন। আবদুল্লাহ শফিক তাকে ফিরিয়ে দিলেও পয়েন্ট থেকে ব্র্যান্ডন কিংয়ের সরাসরি থ্রো স্টাম্পে আঘাত হানে।

তবে রানআউটের পরই উদ্বেগের জন্ম দেয় কিংয়ের চোট। থ্রো করার পর তিনি মাঠেই পড়ে যান এবং কয়েক মিনিট চিকিৎসার পর স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন। পরে জানা যায়, তার পিঠে খিঁচুনি (ব্যাক স্পাজম) হয়েছে।

বাবরের বিদায়ের পর দ্রুত আরও তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে শফিক ও সাজিদ খান সপ্তম উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। সাজিদ ৩০ রান করে আউট হলেও শফিক অপরাজিত থাকেন ১৬০ রানে। সাড়ে সাত ঘণ্টার ম্যারাথন ইনিংসে ৩২৩ বল মোকাবিলা করে ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান। ১১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তিনি। চায়ের বিরতির ঠিক আগে চার বলের মধ্যে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের লেজ দ্রুত গুটিয়ে দেন এই স্পিনার।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানের স্পিন আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সাজিদ খান একাই তুলে নেন ৪ উইকেট। তিনি দ্রুত তাগেনারিন চন্দরপল, আমির জাঙ্গু, শাই হোপ ও নাইটওয়াচম্যান জেডেন সিলসকে ফিরিয়ে দেন।

অন্য প্রান্ত থেকে বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান নেন দুটি উইকেট। দিনের শেষ বলেই স্বাগতিক অধিনায়ক রস্টন চেজকে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড করে পাকিস্তানকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে এনে দেন তিনি। এর আগে কাভেম হজকেও ফিরিয়েছিলেন উসমান। ৩৪ রান করা হজই এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার।

দিন শেষে ২৬ রানে অপরাজিত আছেন প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক জাস্টিন গ্রিভস। চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশা এখন মূলত তার ব্যাটেই।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতেই। চতুর্থ দিনে দ্রুত স্বাগতিকদের অলআউট করতে পারলে সিরিজ ১-১ সমতায় ফেরানোর দারুণ সুযোগ থাকবে সফরকারীদের।