তিন বছর পর কি মুক্তি মিলছে ইমরান খানের, নেপথ্যে সমঝোতার আভাস
-
1
গ্লোবাল সুপার লিগে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স
-
2
জেন-জি ক্রিকেটারদের বুঝেই কোচিংয়ে মানিয়ে নিচ্ছেন সালাহউদ্দিন, রানাকে না পাওয়ায় আক্ষেপ
-
3
শ্রীলঙ্কা সফরেও নেই বুমরাহ, হাঁটুর চোটে বিশ্রামের পরামর্শ বিসিসিআই মেডিকেল দলের
-
4
অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়েই যাচ্ছে বাংলাদেশ, বললেন হাবিবুল বাশার
-
5
তিন বছর পর কি মুক্তি মিলছে ইমরান খানের, নেপথ্যে সমঝোতার আভাস
তিন বছর পর কি মুক্তি মিলছে ইমরান খানের, নেপথ্যে সমঝোতার আভাস
তিন বছর পর কি মুক্তি মিলছে ইমরান খানের, নেপথ্যে সমঝোতার আভাস
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতির মামলায় প্রায় তিন বছর ধরে কারাবন্দি থাকা এই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা। তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে একাকী বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান। সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের পর ক্ষমতা হারানো এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এরপর থেকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা গেছে। অনলাইন আদালতের এক শুনানির ফাঁস হওয়া কয়েকটি স্থিরচিত্রই ছিল গত তিন বছরে তার একমাত্র প্রকাশ্য উপস্থিতি।
আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সূত্রটির মতে, “পাকিস্তান যদি সামনে এগোতে চায়, তাহলে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতেই হবে। দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির ব্যাপক ক্ষতি করেছে।”
আলোচনায় ইমরান খানের শারীরিক অবস্থাও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে তার চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ না থাকায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে পরিবার। এমনকি একপর্যায়ে তাকে ঘিরে মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান জানান, আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। তারা বলেন, “আমাদের বাবা সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘ কারাবাসে তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। অথচ তার সঙ্গে নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগ থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।”
ইমরান খানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। বুখারি বলেন, “ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে একাকী রাখা হয়েছে। এমনকি তার বোন, পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের যদি সামান্যও দায়িত্ববোধ থাকে, তাহলে চিকিৎসাজনিত কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত।”
তবে সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতার সঙ্গে কঠোর শর্ত জড়িয়ে থাকতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মুক্তি পেলেও তাকে দেশ ছেড়ে বিদেশে যেতে, রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে এবং প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার শর্ত দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মনে করেন, এমন শর্ত মেনে নেওয়ার মানুষ নন ইমরান খান।
ইমরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথও একই মত পোষণ করেন। তিনি বলেন, “ইমরান খুবই একগুঁয়ে মানুষ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতিময় বোলারদের বিপক্ষে খেলতে গিয়েও তিনি হেলমেট পরতেন না। তাই এমন শর্তও তিনি মেনে নেবেন বলে মনে হয় না। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই তিনি মুক্তি পান। আমি চাই না, তিনি একা কারাগারে মারা যান।” একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, “সামরিক নেতৃত্বও তাকে মুক্তি দিতে চাইবে না। কারণ তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার মানুষ নন এবং চুপ থাকবেন না।”
অন্যদিকে, ইমরান খানের মুক্তি নিয়ে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার দাবি উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেছেন, “ইমরান খানকে নিয়ে কোনো আলোচনা হলে তা সরাসরি সরকারের সঙ্গেই হবে। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। এখানে সামরিক প্রতিষ্ঠানের কোনো ভূমিকা নেই এবং রাজনীতিতেও তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
চিকিৎসাজনিত কারণে মুক্তির দাবিও নাকচ করে তিনি আরও বলেন, “ইমরান খান ভালো আছেন। চিকিৎসাজনিত কারণে তাকে জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে।”
