পরিবর্তনের পথেই বাংলাদেশের সাফল্য, বললেন শান্ত

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 8 ঘন্টা আগে আপডেট: 7 মিনিট আগে
পরিবর্তনের পথেই বাংলাদেশের সাফল্য, বললেন শান্ত

পরিবর্তনের পথেই বাংলাদেশের সাফল্য, বললেন শান্ত

পরিবর্তনের পথেই বাংলাদেশের সাফল্য, বললেন শান্ত

একসময় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিল ধারাবাহিকতা। ভালো শুরু করেও ম্যাচ হাতছাড়া করা, ব্যাটিং ধস কিংবা দীর্ঘ সময় চাপ ধরে রাখতে না পারার গল্পই বেশি শোনা যেত। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর সেই বাংলাদেশকে যেন নতুনভাবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিশ্বাস, দলের মানসিকতা ও পরিকল্পনায় আনা পরিবর্তনই এনে দিচ্ছে এই সাফল্য।

বুধবার (২০ মে) ম্যাচ শেষে শান্ত স্পষ্টভাবেই কৃতিত্ব দিয়েছেন পুরো দলকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমরা কিছু জিনিস বদলানোর চেষ্টা করেছি। বিশ্ব ক্রিকেটে যদি কিছু গড়তে চান, তাহলে পরিবর্তন আনতেই হবে। আশা করি আমরা এভাবেই খেলতে থাকব।’

শান্তর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশের টেস্ট দলে গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা নতুন সংস্কৃতির চিত্র। বিশেষ করে ফিটনেস, মানসিক দৃঢ়তা ও দীর্ঘ সময় পরিকল্পনা ধরে রাখার দিকগুলোতে বদল আনার চেষ্টা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলনই দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

দলের প্রস্তুতি নিয়েও বেশ সন্তুষ্ট অধিনায়ক। সিলেটের গরম আবহাওয়া ও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও যেভাবে পেসাররা ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, সেটিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা অসাধারণ ছিলাম। এই ধরনের কন্ডিশনে সেটা অনেক সাহায্য করেছে। আমাদের পেসাররা গরম আবহাওয়া ও ফ্ল্যাট উইকেটে দারুণ বোলিং করেছে। এটা এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা উন্নতি করতে চেয়েছিলাম।’

বিশেষ করে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এই সিরিজে ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ সময় নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে পাকিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রাখা, নতুন বলে উইকেট নেওয়া এবং পুরোনো বলেও ধার বজায় রাখা সব মিলিয়ে পেস ইউনিটের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট অধিনায়ক।

ব্যাটিং বিভাগেও বদলে যাওয়া মানসিকতার ছাপ দেখছেন শান্ত। তার মতে, আগের মতো দ্রুত উইকেট হারানোর প্রবণতা কমেছে। বরং এখন ব্যাটাররা বড় জুটি গড়তে পারছেন, যা দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। অধিনায়ক বলেন, ‘আগে আমরা অনেক দ্রুত উইকেট হারাতাম। কিন্তু এখন দারুণ কিছু পার্টনারশিপ হচ্ছে। টেইলএন্ডাররাও রান করছে। এগুলোই আমরা উন্নত করতে চেয়েছিলাম।’

শুধু ঘরের মাঠেই নয়, বিদেশের মাটিতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য বাংলাদেশের। সামনের কঠিন সফরগুলোকেই বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে বিদেশের সিরিজগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ। গত চক্রে আমরা বাইরে কিছু ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে এবার আরও কঠিন সফর আছে। এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। যদি আমরা পেসার ও স্পিনারদের নিয়ে এভাবেই ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে বিদেশেও ভালো করার সুযোগ থাকবে।’