অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে নাহিদকে খেলানো কেন জরুরি ছিল, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
-
1
গ্লোবাল সুপার লিগে ইমনের মাঝারি ইনিংসের পরও ৫৩ রানে হারলো লাহোর কালান্দার্স
-
2
বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডবে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল ভারত
-
3
সোহানের ঝোড়ো ইনিংসের পর গালের বড় জয়
-
4
দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল, ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে অংশ নেবে
-
5
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে নাহিদকে খেলানো কেন জরুরি ছিল, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে নাহিদকে খেলানো কেন জরুরি ছিল, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে নাহিদকে খেলানো কেন জরুরি ছিল, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
বাংলাদেশের গতি আক্রমণের অন্যতম ভরসা নাহিদ রানাকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ছিল বড় প্রত্যাশা। তবে সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা লেগেছে তরুণ এই পেসারের চোটে। জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়ায় তিনি ছিটকে গেছেন বহুল প্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, সামনে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ থাকলেও কেন নাহিদকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয়েছিল? সেই বিতর্কের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তার ভাষ্য, বৈজ্ঞানিক ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবেই নাহিদকে খেলানো হয়েছিল এবং এই চোটকে তিনি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা বলেই মনে করছেন।
প্রায় দুই দশকের বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। তবে সফরের আগে একের পর এক চোটে দুশ্চিন্তায় টিম ম্যানেজমেন্ট। নাহিদ রানার পাশাপাশি লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদেরও পাচ্ছে না বাংলাদেশ।
নাহিদসহ জাতীয় দলের পেসারদের ওয়ার্কলোড কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাবিবুল বাশার জানান, এখন আর বিষয়টি কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি বোলারের শারীরিক চাপ বিশ্লেষণ করা হয় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি এখন আর শুধু মুখে বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের প্রতিটি মুভমেন্ট ট্র্যাক করা হয় এবং সেই তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয় কে কোন সিরিজে কয়টি ম্যাচ খেলবে। নাহিদ রানা ছাড়াও তাসকিনসহ আমাদের যত ফাস্ট বোলার আছে, সবার ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।’
অস্ট্রেলিয়া সিরিজকে সামনে রেখে নাহিদের ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচক। তার দাবি, ওয়ার্কলোড বিবেচনায় নাহিদ টেস্ট খেলার জন্য প্রস্তুতই ছিলেন। তবে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে তাকে এবং দলের অন্য প্রধান পেসারদের টেস্টে খেলানো হয়নি। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘নাহিদ রানার ক্ষেত্রে যদি দেখেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে (ঘরের মাঠে সিরিজে) তাকে সব ম্যাচ খেলাইনি। সে প্রথমে দুটি ওয়ানডে খেলার পর এক সপ্তাহের বিরতি পেয়েছে এবং এরপর দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট অনুযায়ী সে টেস্ট খেলার জন্যও এভেইলেবল ছিল। এমনকি ফিজিওর রিপোর্ট অনুযায়ী সে এবং আমাদের বাকি নিয়মিত ফাস্ট বোলাররা টেস্ট খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যেহেতু আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা তাকেসহ আমাদের মূল তিনজন ফাস্ট বোলারকে টেস্টে খেলাইনি।’
নাহিদকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলানো নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিরও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তার মতে, একজন পেসারকে দীর্ঘ সময় ম্যাচের বাইরে রাখলেও ইনজুরির ঝুঁকি তৈরি হয়। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ছন্দ ধরে রাখতে তাকে খেলানো হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচকের বক্তব্য, ‘নাহিদ রানা ওডিআইতে ভালো (সুস্থ) ছিল এবং সেখানে তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি খেলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলতে গিয়ে সে ব্যথা পায়। অনেকে মনে করতে পারেন তাকে না খেলালেও চলত, কিন্তু ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের একটি কারিগরি দিক আছে।’
ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জোনভিত্তিক কাঠামোর কথাও তুলে ধরেন হাবিবুল বাশার। তিনি জানান, একজন পেসারের শরীর কতটা চাপ নিতে পারছে, সেটি নির্ধারণে বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং লক্ষ্য থাকে তাকে নিরাপদ অবস্থায় রাখা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বোলারদের কন্ডিশনকে রেড, গ্রিন এবং ইয়োলো—এই তিনটি জোনে ভাগ করি। একজন ফাস্ট বোলার যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বোলিং করে তবে সে যেমন ইনজুরির ঝুঁকিতে (রেড জোন) থাকে, তেমনি যদি তাকে ম্যাচ না খেলিয়ে বসিয়ে রাখা হয়, তবে লোড কম হওয়ার কারণেও সে ইনজুরির ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাই টেস্ট ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে একজন বোলারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বল করে ‘গ্রিন জোনে’ থাকতে হয়।’
গ্রিন জোনে থাকার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সহজ কথায়, একজন ফাস্ট বোলারকে বসিয়ে রাখা তার জন্য ভালো নয়; তাকে একটি নির্দিষ্ট ছন্দে বোলিংয়ের মধ্যে থাকতে হয়। নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও এই চিন্তাভাবনা থেকেই তাকে ম্যাচ খেলানো হয়েছিল। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সে ইনজুরড হয়েছে, তবে এই ইনজুরি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও হতে পারত।’
সবশেষে ফাস্ট বোলারদের ইনজুরি পুরোপুরি এড়ানো যে বাস্তবে সম্ভব নয়, সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধান নির্বাচক। তার ভাষায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করলেও পেসারদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। এ প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘ফাস্ট বোলারদের ইনজুরিমুক্ত রাখা সবসময়ই কঠিন একটি কাজ। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমরা শতভাগ চেষ্টা করেও ইনজুরি পুরোপুরি এড়াতে পারি না, বড়জোর তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারি। আমরা নাহিদ রানার প্রতি প্রতিটি মুহূর্তে বাড়তি যত্ন নিচ্ছি এবং অনেক নিয়ম মেনে চলছি, তারপরও এমন ইনজুরি আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত দুঃখজনক।’
