ফাইনালে ফ্লপদের ফেরার লড়াইয়ে চাপের মুখে অভিষেক ও ভরুন

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 10 মিনিট আগে
ফাইনালে ফ্লপদের ফেরার লড়াইয়ে চাপের মুখে অভিষেক ও ভরুন

ফাইনালে ফ্লপদের ফেরার লড়াইয়ে চাপের মুখে অভিষেক ও ভরুন

ফাইনালে ফ্লপদের ফেরার লড়াইয়ে চাপের মুখে অভিষেক ও ভরুন

বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনও আকাশ ছোঁয়া, কখনও যেন জ্বলে উঠতে না পারা! এই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন দুই তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার অভিষেক শর্মা এবং ভরুন চক্রবর্তী। তারা দুজনেই টুর্নামেন্টে ফর্মের ওঠানামায় ভুগছেন, আর ফাইনালের বড় মঞ্চে তাদের পারফরম্যান্স ভারতের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

টুর্নামেন্ট শুরুতেই অভিষেক শর্মার ব্যাটিং ধরা পড়েছিল হাফ-ফ্লপ। প্রথম তিন ম্যাচে টানা তিন শূন্য। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রান পেলেও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৩০ বলে ৫৫ রান করে মনে হয়েছিল ফর্ম ফিরছে, কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১০ ও ৯ রান। তাই ফাইনালে একাদশে রাখার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব বলেছেন, “দলের ওপর আস্থা রাখতে হবে, এবং ম্যানেজমেন্টেরও খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা থাকা উচিত। অভিষেকেরও নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ‘আমি পারফর্ম করতে পারি এবং আমি করব।’ ফাইনাল একটি ম্যাচ, যা এখনও বাকি।”

ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের কথায় স্পষ্ট, ফর্মের ওঠা-নামা যাই হোক, মানসিকভাবে ফোকাস করতে পারলে ফাইনালে অভিষেক ওপেনিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

ভরুন চক্রবর্তী বিশ্বকাপের শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচে কোনো ওভারপ্রতি ছয় রানের বেশি দেননি, ১৩ উইকেটের ৯টি পেয়েছিলেন তখন। কিন্তু সুপার এইটে তিন ম্যাচে ১২ ওভারে ১২২ রান খরচ, মাত্র ৩ উইকেট। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জস বাটলারের উইকেট পেলেও ৪ চারে ৬৪ রান খরচ, যা ভরুনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ।

ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান মনে করেন, “ভরুনের আত্মবিশ্বাস এখন খুবই কম। তাকে দুই দিনের জন্য চাপমুক্ত রাখাই ভালো। খুব বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলার দরকার নেই। চনমনে মানসিকতা ও ইতিবাচক শক্তি নিয়ে ফাইনালে খেলানো উচিত। একদিনের অনুশীলনে বেশি পরিবর্তন করার দরকার নেই।”

তাই ভরুনের খারাপ ফর্ম শুধু রান নয়, মানসিক অবস্থারও প্রতিফলন। ফাইনালে তাকে কার্যকর রাখতে মানসিক চাপ কমানো জরুরি।

ফাইনাল শুধু রান বা উইকেটের লড়াই নয়, এটি মানসিক দৃঢ়তা ও আস্থার লড়াইও। অভিষেকের ব্যাটিংয়ে ঝলক বা অনিশ্চয়তা, ভরুনের বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ বা চাপ। এই দুইয়ের মানসিক দৃঢ়তা ভারতের ভাগ্য ঠিক করবে। ফ্লপ হওয়া তরুণরা যদি আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, ভারত সম্ভাবনাময়; ব্যর্থ হলে ফাইনাল কঠিন হয়ে যাবে।