এখনই সময় আমি কে দেখানোর - সেঞ্চুরির দিনে আজান

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
এখনই সময় আমি কে দেখানোর - সেঞ্চুরির দিনে আজান

এখনই সময় আমি কে দেখানোর - সেঞ্চুরির দিনে আজান

এখনই সময় আমি কে দেখানোর - সেঞ্চুরির দিনে আজান

অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি, তবু দিন শেষে পুরো হাসিটা যেন পেল না পাকিস্তান। মিরপুরে প্রথমবারের মতো সাদা পোশাকে নেমে আজান আওয়াইস ব্যাট হাতে উজ্জ্বল এক ইনিংস খেললেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নিতে পারেনি সফরকারীরা। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে সামান্য লিড নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করায় চতুর্থ দিনের আগে জমে উঠেছে লড়াই।

দিনের বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন পাকিস্তানের তরুণ ব্যাটার আজান আওয়াইস। অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন তিনি।

দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন আজান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচেই শতক পাওয়াকে বিশেষ কিছু হিসেবেই দেখছেন এই ব্যাটার। শুরুতে চাপ অনুভব করলেও দ্রুত সেটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।

‘দারুণ অনুভূতি। আমার অভিষেক ম্যাচেই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি পেলাম, দারুণ লাগছে। আমি যখন প্রথম ব্যাটিংয়ে যাচ্ছিলাম, কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ ভালো পারফর্ম করতে পেরেছি।’

নিজের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সতীর্থদের সঙ্গে গড়া জুটিগুলো। বিশেষ করে আব্দুল্লাহ ফজল ও ইমাম-উল-হকের সঙ্গে ব্যাটিং করার সময় বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন আজান। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পরামর্শ তাকে স্বস্তি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘তারা আমাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। দুজনের সাথে ভালো জুটি গড়েছি দলের হয়ে। বিশেষ করে, ইমাম ভাই অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ভালো লেগেছে।’

ম্যাচের বর্তমান অবস্থা নিয়েও আশাবাদী পাকিস্তানের এই তরুণ ব্যাটার। প্রথম ইনিংসের ব্যাটিংয়ে দল ভালো করেছে বলে মনে করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও উন্নতি করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায় পাকিস্তান।

‘ভালো ম্যাচ হচ্ছে। প্রথম ইনিংসে ভালো করেছি আমরা। ব্যাটিং নিয়ে অধিনায়ক আমাদের সাথে অনেক কথা বলেছেন, আশা করি সেগুলো দ্বিতীয় ইনিংসে কাজে লাগাতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

ইনিংসের সময় নাহিদ রানার গতির মুখেও দারুণ সাহস দেখিয়েছেন আজান। বাংলাদেশের এই পেসারের দুটি বাউন্সার তার হেলমেটে আঘাত হানে। তবে সেটি তাকে ভড়কে দিতে পারেনি বলেই জানালেন তিনি। বরং সেই মুহূর্তটাকে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।

‘আমি আসলে নার্ভাস হইনি, যখন বল হেলমেটে লেগেছিল। আমি ৫ মিনিটের জন্য শুধু জোন আউট হয়ে গিয়েছিলাম। পরে ভাবলাম এখনই সময় আমি কে তা দেখিয়ে দেওয়ার (হাসি)।’

সেঞ্চুরির পর খুব বেশি আবেগ না দেখিয়ে শান্ত উদযাপন করেছিলেন আজান। পরে জানান, পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অপেক্ষার ফল হিসেবেই দেখছেন এই অর্জনকে। তার সাফল্যে পরিবারের সদস্যরাও ভীষণ আনন্দিত।

‘আমি কেবল নরমালভাবে উদযাপন করেছি। দারুণ মুহূর্ত ছিল আমার জন্য। (পরিবারের) সবাই অনেক খুশি। তাদের সাথে অনেক কথা হয়েছে বছরজুড়ে। (এখন সেঞ্চুরি করায়) সবাই বেশ খুশি, তাদের জন্যও ভালো মুহূর্ত।’

দলে সুযোগ পাওয়ার পেছনের পথচলার কথাও তুলে ধরেছেন এই ব্যাটার। দীর্ঘ সময় ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন বলে জানান তিনি। টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন পূরণ হওয়াকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন আজান।

‘আমি গত দেড় বছরে ৩৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছি। আমি ভালো পারফর্ম করেছি সেখানে। আমার জন্য টেস্ট ক্রিকেট খেলাটা স্বপ্নের মত ব্যাপার ছিল। পরে ক্যাম্পে সুযোগ পেলাম, কোচদের সাথে কথা বললাম। স্বপ্নপূরণ করে আমার লক্ষ্য পূরণের সুযোগ পেয়েছি (এবং কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি)।’

মিরপুরের সবুজাভ উইকেটও তার জন্য খুব অচেনা ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান আজান। যদিও আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ শুরুতে কিছুটা অনুভব করেছিলেন, পরে সেটি সামলে নিতে পেরেছেন।

‘আসলে সবুজ উইকেটে ঘরোয়া ক্রিকেটে যেভাবে খেলেছি সেভাবেই এখানে খেলার চেষ্টা করেছি। ডিউক বলে সবুজ উইকেটে আগে খেলেছি আমি। তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ, শুরুতে কিছুটা চাপ তো ছিলই। সব সামলে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছি।’