পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা সাবেক পেসার আমিরের
পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা সাবেক পেসার আমিরের
পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা সাবেক পেসার আমিরের
মিরপুরে একতরফা হারের ধাক্কা সামলাতেই পারছে না পাকিস্তান। বাংলাদেশের পেসারদের তোপে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৮ উইকেটের বড় পরাজয়ের পর নিজের দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। তরুণ ব্যাটারদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা থেকে শুরু করে দল নির্বাচনের কৌশল সবকিছু নিয়েই কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
এই ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আমির। বাংলাদেশের কাছে নিয়মিত হারতে শুরু করায় ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। নিজের সেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আমির লিখেছেন, আমরা এখন বাংলাদেশের কাছে হারতে শুরু করেছি। আমি চিন্তিত যে আমরা হয়তো কোনো অ্যাসোসিয়েট পর্যায়ের দলে পরিণত হতে পারি।’
বাংলাদেশ সফরের জন্য পাকিস্তান যে দলটি বেছে নিয়েছে, তাতে ছিল ছয়জন অনভিষিক্ত ক্রিকেটার। প্রথম ম্যাচেই চারজন ব্যাটারের অভিষেক হয়। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বাইরে রেখে কেবল তরুণদের ওপর ভরসা করার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে মনে করছেন আমির। তার মতে, একটি দলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভারসাম্য থাকা জরুরি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন,
"আপনার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল প্রয়োজন যেখানে সিনিয়র এবং তরুণদের সংমিশ্রণ থাকবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া শুধু তরুণদের ওপর নির্ভর করে আপনি সিনিয়রদের হুট করে বাদ দিতে পারেন না। এটি দলের অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর।"
পাকিস্তানের তরুণ ব্যাটারদের ব্যাটিং কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই বাঁহাতি পেসার। বিশেষ করে উদীয়মান ক্রিকেটার মায সাদাকাত ও শামিল হোসেনের টেকনিক নিয়ে তার উদ্বেগ স্পষ্ট। তরুণদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে আমির বলেন, "তাদের টেকনিকে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এখনকার তরুণরা কেবল মিড-উকেটের দিকে খেলতে চায়। বল যখন অফ-স্টাম্পে থাকে, তখন তারা সেটা সামলাতে জানে না।"
একই প্রসঙ্গে শামিল হোসেনের আউট হওয়ার ঘটনাকেও উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন তিনি। তরুণদের শট নির্বাচনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে আমির মন্তব্য করেন, "শামিল মিড-উকেটে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছে। তরুণদের বোঝা উচিত যে অফ-সাইড এবং মিড-অফের ওপর দিয়েও রান তোলা সম্ভব।"
বাংলাদেশের বোলিং পারফরম্যান্সও আমিরের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পাঁচ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেওয়া নাহিদ রানার প্রশংসা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্সকেও তুলে ধরেন সাবেক এই পেসার। তার ভাষায়, "পাকিস্তান মাত্র ১১৪ রান করেছে। নাহিদ চমৎকার বোলিং করেছে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলো অসাধারণ।"
ম্যাচটিতে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন নাহিদ রানা। আর ২৯ রান খরচায় তিনটি উইকেট নেন অধিনায়ক মিরাজ।
শুধু ব্যাটিং নয়, নিজেদের বোলিং নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন আমির। তার মতে, যে উইকেটে পাকিস্তানের ব্যাটাররা ভুগেছে, সেই একই উইকেটে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই রান তাড়া করে ফেলেছে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের বোলিং ছিল হতাশাজনক। যে উইকেটে আমরা ভুগেছি, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মাত্র ১৫.১ ওভারে লক্ষ্য তাড়া করে ফেলেছে।"
