মিরপুরে ক্যাচ মিসের মহড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের বড় হার
মিরপুরে ক্যাচ মিসের মহড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের বড় হার
মিরপুরে ক্যাচ মিসের মহড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের বড় হার
মিরপুরের চেনা টার্নিং ও অসম বাউন্সের সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষকে বধ করার যে ছক এঁকেছিল স্বাগতিকরা, তা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়াল। সফরকারী স্পিনারদের তোপে খেই হারিয়ে নিজেদের পাতা ফাঁদেই আটকা পড়ল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের স্পিন আক্রমণে ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার পর ব্যর্থ হয়েছেন স্বাগতিক বোলাররাও। ফলে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে বড় ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাচে আলোকস্বল্পতা, গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও একাধিকবার বজ্রপাতের কারণে খেলা ব্যাহত হলেও সফরকারীদের দমানো সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত সময়ের আগেই চতুর্থ দিনে গড়ায় ম্যাচের ফয়সালা। ১৭০ রানের তুলনামূলক চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্যারিবিয়ানরা। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল সেঞ্চুরি জুটি গড়ে দলের জয়ের মূল ভিত গড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত উইকেটে টিকে থেকে অপরাজিত ৮১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান কিং।
সংক্ষিপ্ত লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছু সুযোগ তৈরি হলেও ভাগ্য সহায় হয়নি লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। ক্যারিবীয় ব্যাটারদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মুখে বাংলাদেশের তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছিলেন একদমই নিষ্প্রভ। প্রথম ২১ ওভারে কোনো সাফল্য না আসায় পেস বোলারদের ডেকে নেন অধিনায়ক। শরিফুল ইসলাম বল হাতে পেয়েই ব্রেকথ্রু এনে দেন ক্যাম্পবেলকে (৪৯) বোল্ড করে।
এরপর আরেক পেসার হাসান মাহমুদ ত্যাগনারায়ন চন্দরপলকে সাজঘরে ফেরান। তবে সুযোগ নষ্টের মিছিলে ক্যাচ ফেলার খেসারত দিতে হয় দলকে স্লিপে অধিনায়ক শান্ত ও বাউন্ডারিতে বদলি ফিল্ডার ইবাদত হোসেন ব্র্যান্ডন কিংয়ের ক্যাচ হাতছাড়া করলে সফরকারীদের জয় আরও সহজ হয়ে যায়। শেষ দিকে কেভাম হজ ৩১ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন।
তবে এই ম্যাচের আসল নায়ক ক্যারিবিয়ান স্পিন জুটি। রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিকনের ঘূর্ণিতেই মূলত কুপোকাত হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে চেজ মাত্র ৩৬ রান খরচ করে তুলে নেন ৫টি উইকেট, আর ওয়ারিকন ৬৩ রানে নেন ৪ উইকেট। পুরো ম্যাচজুড়ে স্পিনের দারুণ প্রদর্শনী দেখিয়ে ওয়ারিকন ঝুলিতে পুরেন মোট ৯টি উইকেট। একই উইকেটে প্রতিপক্ষ স্পিনাররা যখন তাণ্ডব চালিয়েছেন, তখন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজরা ছিলেন সম্পূর্ণ প্রভাবহীন। দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীদের একটি উইকেটও ফেলতে পারেননি স্বাগতিক স্পিনাররা, যা ম্যাচের ফলে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
