টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন সমীকরণ চাপ নয়, প্রেরণা শান্তর
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন সমীকরণ চাপ নয়, প্রেরণা শান্তর
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন সমীকরণ চাপ নয়, প্রেরণা শান্তর
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার দৌড়ে টিকে থাকতে বাংলাদেশ দলকে পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ, জিততে হবে হাতে থাকা বাকি চার টেস্টের সবকটিতেই। কঠিন এই সমীকরণ সত্ত্বেও ব্যাপারটিকে কোনোভাবেই মানসিক চাপ মনে করছেন না অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে অবস্থান করা এবং শীর্ষ দুইয়ে থেকে লর্ডসের ফাইনালের লড়াইয়ে থাকার সুযোগকে দলের জন্য একটি চমৎকার অনুপ্রেরণা হিসেবেই গণ্য করছেন তিনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে ব্যর্থতার গ্লানি কাটিয়ে এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে স্কোয়াডে তাসকিন আহমেদের প্রত্যাবর্তন পেস আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করেছে। পেসাররা নিজেদের দায়িত্ব ও খেলার কৌশল সম্পর্কে সম্পূর্ণ পরিষ্কার ধারণা রাখেন বলে শান্ত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পেসারদের প্রস্তুতি ও কৌশলগত স্পষ্টতা নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘আমাদের পেস আক্রমণের ইতিবাচক দিক হলো, প্রত্যেকে নিজের ভূমিকা জানে। কে কখন খেলবে, সেটাও তারা জানে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাকে খেলানো উচিত, সে ব্যাপারে তাদের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।’
অধিনায়ক হিসেবে একাদশে ক্রিকেটার নির্বাচনের এমন বিকল্প ও সবার প্রস্তুত থাকাটা বড় স্বস্তির বিষয়। স্কোয়াডের সার্বিক প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শান্ত যোগ করেন, ‘সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য স্কোয়াডের সবাই প্রস্তুত থাকে, এটা দারুণ ব্যাপার। প্রস্তুতির দিক থেকে তারা সব সময়ই ভালো অবস্থানে থাকে। যেকোনো সময় তাদের একজনকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আমার জন্য বড় সুবিধা।’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পূর্ববর্তী তিন আসরের তুলনায় এবার বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটেছে। বর্তমানে দল পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে অবস্থান করায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে উদ্দীপনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থান ও দেশের সমর্থকদের প্রত্যাশাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শান্ত।
টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমান অবস্থান ও নিজেদের প্রসেস বা অনুশীলনের ধারা বজায় রাখা প্রসঙ্গে শান্ত তার নিজস্ব ভাবনা তুলে ধরে উল্লেখ করেন,
‘আমার কাছে এটা চাপ নয়, অনুপ্রেরণা। শীর্ষ চারে থাকার বিষয়টি আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। টেস্ট ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এটাও অনুপ্রেরণার। এই সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করার পর থেকে কিংবা সিরিজ নিয়ে আলোচনা করার সময় থেকেই আমাদের মনোযোগ গত কয়েকটি সিরিজে এবং গত কয়েক বছরে আমরা টেস্ট ক্রিকেটে কেমন খেলেছি, ওই দিকে।’
মাঠে অতিরিক্ত কিছু না করে নিজেদের স্বাভাবিক ও প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট প্রক্রিয়া বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দলের প্রতি প্রত্যাশার সীমা নির্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাড়তি কিছু করতে চাই না, শুধু নিজেদের প্রক্রিয়া মেনে চলতে চাই। কারও কাছে অসাধারণ কিছু প্রত্যাশা করছি না। সিরিজটি অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের লক্ষ্য নিজেদের প্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলো অনুসরণ করা। এই প্রক্রিয়া থেকেই আমরা ফল পাচ্ছি।’
