অপ্রতিরোধ্য বুমরাহ, বিশ্বকাপ ফাইনালে ৪ ওভারে ৪ উইকেটের জাদু

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 3 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
অপ্রতিরোধ্য বুমরাহ, বিশ্বকাপ ফাইনালে ৪ ওভারে ৪ উইকেটের জাদু

অপ্রতিরোধ্য বুমরাহ, বিশ্বকাপ ফাইনালে ৪ ওভারে ৪ উইকেটের জাদু

অপ্রতিরোধ্য বুমরাহ, বিশ্বকাপ ফাইনালে ৪ ওভারে ৪ উইকেটের জাদু

নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে তাবড় ভিড় আর উত্তেজনার ঝড়ের মধ্যে রোববার ভারতের আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভ করল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ২৫৬ রানের লক্ষ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয় ভারত। বল হাতে এই জয়কে স্মরণীয় করে রেখেছেন জসপ্রীত বুমরাহ। চার ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেওয়া তাঁর বোলিংই ছিল ভারতের জয়ের চাবিকাঠি।

ফাইনালে ভারতের জয়কে বল হাতে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেওয়া তাঁর বোলিং এক কথায় অসাধারণ। এছাড়া ফাইনালের পরিসংখ্যানও তাই প্রমাণ করে: ৪ ওভার , রান খরচ ১৫, উইকেট ৪, ইকোনমি রেট ৩.৭৫ এবং ১৬তম ওভারে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা। এই পারফরম্যান্স তাঁকে ফাইনালে ম্যাচ সেরার মর্যাদা এনে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে এটি তার অষ্টমমবারের সম্মান।

পুরস্কার গ্রহণের সময় বুমরাহ বলেছেন, “নিজেকে খুবই স্পেশাল মনে হচ্ছে। কারণ ঘরের মাঠে আমি আগেও একটি ফাইনাল খেলেছিলাম, কিন্তু সেটা জিততে পারিনি। তবে আজকে জিতলাম। জানতাম, উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং সহায়ক। তাই নিজের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হয়েছে।” 

তিনি আরও যোগ করেন, “এই টুর্নামেন্টের আগে আমি এমন অবস্থায় ছিলাম, মনে হচ্ছিল নিজের ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। বোলিং ভালোই করছিলাম; কিন্তু মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত চেষ্টা করছি। এই টুর্নামেন্টে স্রেফ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছি আর সেটাই কাজে দিয়েছে… ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ সেরা হওয়ার চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না।”

ম্যাচের চতুর্থ ওভারে বুমরাহ প্রথম বলেই রাচিন রবিন্দ্রকে ফেরান এবং ওই ওভারে মাত্র ৪ রান খরচ করেন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তিনি দলের চাপ কমান। ইনিংসের ১৬তম ওভারে তিনি জিমি নিশাম এবং ম্যাট হেনরিকে বোল্ড করে ভারতীয় জয়ের পথ মজবুত করেন। ১৮তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারের স্টাম্প ভাঙা দিয়ে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। 

ফাইনালে বুমরাহর অসাধারণ বোলিং কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি ক্রিকেটীয় দক্ষতারও প্রতীক। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা বুমরাহর বোলিংয়ের চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন, যা ভারতের জয়কে সহজ করে। তাঁর বোলিং প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে ফেলা, ক্রিকেটীয় দক্ষতা এবং সঠিক কৌশলের নিখুঁত মিশ্রণ।

বুমরাহ মনে করছেন ২০২৩ I ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের সেই ফাইনাল এখনও তার স্মৃতিতে অম্লান। সেই ফাইনালে ৯ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন, কিন্তু ভারত জয় পায়নি। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের জয় সেই আক্ষেপকে মুছে দিয়েছে। যেমন তিনি নিজেই বলেছেন, “নিজেকে খুবই স্পেশাল মনে হচ্ছে। কারণ ঘরের মাঠে আমি আগেও একটি ফাইনাল খেলেছিলাম, কিন্তু সেটা জিততে পারিনি।”

ঘরের মাঠে ফাইনাল জেতা, চাপের মুহূর্তে দলের দায়িত্ব নেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে অচল করা, এসবই বুমরাহকে একজন ব্যতিক্রমী বোলার এবং ম্যাচ উইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।