সৌরভ থেকে হাফিজ, পাক-ভারত উত্তাপের মাঝেও স্যামসনে মুগ্ধ দুই দেশ
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 15 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে-
1
ইডেনে জয় ভারতের, বিতর্কে ১৯তম ওভার, হেইডেনের কড়া প্রশ্ন আম্পায়ারিং নিয়ে
-
2
আমি ব্যর্থ হয়েছি, কোকোর অবদান স্মরণে তামিমের ক্ষমাপ্রার্থনা
-
3
নির্বাচক প্যানেলে দুই সদস্য চায় বিসিবি
-
4
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জিম্বাবুয়ে দলের দেশে ফেরা স্থগিত
-
5
বিশ্বকাপ না খেলার হতাশা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের চোখ পাকিস্তান সিরিজে
সৌরভ থেকে হাফিজ, পাক-ভারত উত্তাপের মাঝেও স্যামসনে মুগ্ধ দুই দেশ
সৌরভ থেকে হাফিজ, পাক-ভারত উত্তাপের মাঝেও স্যামসনে মুগ্ধ দুই দেশ
উপমহাদেশে ভারত–পাকিস্তান লড়াই মানেই আবেগ, ইতিহাস আর অদৃশ্য চাপের সমীকরণ। ক্রিকেট এখানে কেবল খেলা নয়; দুই দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছায়াও অনেক সময় মাঠে এসে পড়ে। সেই বাস্তবতায় প্রতিপক্ষ দেশের সাবেক তারকার মুখে অকপট প্রশংসা সহজে শোনা যায় না। কলকাতার চাপের ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সঞ্জু স্যামসন। রান তাড়ার ভেতরে আগ্রাসন ও সংযম, দুটোর সঠিক মিশ্রণে গড়া ইনিংসটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি স্বাভাবিকভাবেই মুগ্ধ। তিনি বলেন, “অসাধারণ। খুব ভালো খেলোয়াড় সে। সাদা বলে ভারতের হয়ে নিয়মিত খেলা উচিত ওর।”
পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতাকে আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি, “সবাই জানে, যখন সে মাঠে নামবে, তখন প্রতিপক্ষকে আঘাত করবে। সে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলেছে, যা গুরুত্বপূর্ণ।”
দেশের একজন কিংবদন্তির প্রশংসা প্রত্যাশিত। তবে আলোচনায় অন্য মাত্রা যোগ করেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের দুই সাবেক ক্রিকেটারের মন্তব্য।
সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলী স্যামসনের ব্যাটিংয়ে দেখেছেন বড় মাপের রান তাড়ার দক্ষতা।
সাবেক এই পাক ব্যাটসম্যান বলেন, “তার ব্যাটিংয়ে ভিরাট কোহলির কিছুটা প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন, বোলার ভেদে কীভাবে রান করতে হয়, আর তার পেশিশক্তিও আছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “সাঞ্জু যেভাবে ব্যাটিং করছিল, আমি ভাবছিলাম, ‘এই ছেলেটা তো চেইস মাস্টার।’ আমরা সাধারণত ভিরাট কোহলির ক্ষেত্রেই এই কথা বলি। কিন্তু আজকে তো কোহলি ছিলই না।”
অন্যদিকে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ জোর দিয়েছেন মানসিকতার ওপর, “ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য সাঞ্জু কখনোই চেষ্টা করেনি… তার কাছে ম্যাচ জেতাটা ছিল সবকিছুর ঊর্ধ্বে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথমে সে আক্রমণাত্মক ছিল। এরপর সম্ভবত কোনো বার্তা পায়, কিংবা নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় হাল ধরার… একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দেশের জন্য ম্যাচ জেতা।”
ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথের আবহে এমন মন্তব্য কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ ছাপিয়ে যে পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষকেও প্রশংসায় বাধ্য করে, সেটিই হয়ে ওঠে বিশেষ। সেদিনের ইনিংস তাই শুধু স্কোরলাইনের গল্প নয়; ছিল এমন এক প্রদর্শনী, যা সীমান্তের দু’পাশেই স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে।
