বিশ্বকাপ না খেলার হতাশা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের চোখ পাকিস্তান সিরিজে

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
বিশ্বকাপ না খেলার হতাশা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের চোখ পাকিস্তান সিরিজে

বিশ্বকাপ না খেলার হতাশা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের চোখ পাকিস্তান সিরিজে

বিশ্বকাপ না খেলার হতাশা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের চোখ পাকিস্তান সিরিজে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের জন্য মানসিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দল খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ হারানোর হতাশা অনুভব করলেও, সেটিকে তারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবেলা করে ওয়ানডে সিরিজ এবং ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করছে। 

বিসিএল ফাইনাল সামনে রেখে মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন মধ্যাঞ্চলের প্রতিনিধি ও ওপেনার সাইফ হাসান।

তিনি স্বীকার করেন, দলের ভেতরে হতাশা কাজ করছে। সাইফ বলেন, “সবাই আসলে মন খারাপ করেছে। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সেটা কাটিয়ে ওঠা জরুরি।”

আসন্ন ওয়ানডে সূচি এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “সামনে যেহেতু ওয়ানডে খেলতে হবে এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে, এটার জন্য যত দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারি, আমাদের জন্য ততই ভালো।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার প্রভাব কেবল হতাশা সীমিত নয়; দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা না খেলার কারণে ক্রিকেটাররা সরাসরি আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে খেলেননি, যা কৌশলগত ধারাবাহিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় প্রতিক্রিয়া এবং মানসিক দৃঢ়তায় প্রভাব ফেলতে পারে। সাইফ বলেন, “গত এক-দেড় বছর তেমন ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাইনি। কিছু ওয়ানডে পেয়েছি। তাও টি-টোয়েন্টির মাঝখানে। এখন যে সিরিজ আছে, সেটির প্রস্তুতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে গ্যাপগুলো থাকবে, প্রস্তুতিতেই সেগুলো পূরণ করতে হবে।”

আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ (১১–১৩ মার্চ) দলের মানসিক ও কৌশলগত প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাগজে-কলমে পাকিস্তান ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় বিভাগেই শক্তিশালী, বিশেষ করে মিডল অর্ডার ও পেস বোলিংয়ে। 

সাইফ আশা প্রকাশ করেছেন, বিসিএল ও অন্যান্য টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের মতো উপযুক্ত স্পোর্টিং উইকেট থাকলে ব্যাটার ও বোলার উভয়ই সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, “উইকেটের অবস্থা কেমন হবে জানি না। তবে শেষ যে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলো খেলেছি, উইকেট ভালো ছিল। যদি সেরকম স্পোর্টিং উইকেট থাকে, ব্যাটার-বোলার উভয়েরই উপকার হবে।” 

পাকিস্তান সিরিজের চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে যায় উইকেটের ধরন, ব্যাটিং অর্ডার ও বোলিং সমন্বয়ের কারণে। উইকেট স্পোর্টিং হলে ব্যাটারদের সুবিধা থাকবে, তবে পেসার এবং মিডিয়াম পেস বোলারদের পরিকল্পিত বোলিং যথাযথভাবে লক্ষ্যভেদ করতে হবে। দলের ওপেনিং জুটি, মিডল অর্ডার এবং স্পিন বোলিং, সবকিছুর সমন্বয় এবং ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্যই সিরিজে মূল ভূমিকা পালন করবে।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে ৩১ মার্চের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ৮-এ থাকতে হবে। বর্তমানে দল ৯ নম্বরে অবস্থান করছে। তবে আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা পাঁচ নম্বরে থাকায় শীর্ষ ৮-এ থাকা বাধ্যতামূলক নয়। সাইফ মনে করেন, পাকিস্তান সিরিজ দলকে র‍্যাঙ্কিং উন্নয়ন, মানসিক দৃঢ়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়ার প্রস্তুতি দেবে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশহীনতার হতাশা কাটিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন মানসিকভাবে স্থিতিশীল এবং কৌশলগতভাবে প্রস্তুত। পাকিস্তান সিরিজের মাধ্যমে দল শারীরিক ফিটনেস, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং খেলার ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করবে। সঠিক প্রস্তুতি এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সিরিজ দলকে ওয়ানডে বিশ্বকাপে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। 

যা সাইফের কথায় স্পষ্ট, “যে গ্যাপগুলো থাকবে, প্রস্তুতিতে সেগুলোই গুরুত্ব পাবে। পাকিস্তান সিরিজ আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে এটি সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও দিবে।”