অনিয়ম ও আর্থিক লোকসান সামলাতে হচ্ছে না বিপিএল

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 2 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
অনিয়ম ও আর্থিক লোকসান সামলাতে হচ্ছে না বিপিএল

অনিয়ম ও আর্থিক লোকসান সামলাতে হচ্ছে না বিপিএল

অনিয়ম ও আর্থিক লোকসান সামলাতে হচ্ছে না বিপিএল

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জমকালো আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) হচ্ছে না। প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চুক্তিভিত্তিক শর্ত না মানা এবং ক্রিকেট বোর্ডের ধারাবাহিক বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণে টুর্নামেন্টের আগামী আসরটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।। টুর্নামেন্টের অবকাঠামো ও আর্থিক মডেল পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে এই সাময়িক বিরতি দেওয়া হচ্ছে।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ মৌসুমে টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়ানোর কোনো সুযোগ রয়েছে কি না সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে গিয়ে তিনি কঠোর সুরে তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আই ডোন্ট থিংক সো। এ বছর বিপিএল হচ্ছে না।’

বিপিএল স্থগিত করার পেছনে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক অনিয়মকে দায়ী করে আয়োজকদের বাস্তবসম্মত ও কঠোর সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিপিএলের বিষয়ে আমি কয়েকবারই নির্দেশ করেছি যে আমি বিপিএল এভাবে করব না। এখানে দুই-তিনটা ইস্যু আছে। বিপিএল কেন প্রবলেমে পড়ত? রংপুর আর রাজশাহী ছাড়া বাকিদের কী অবস্থা? কিছু ক্ষেত্রে রুলস রেгулиশনস ব্রেক করা হয়েছে। বিসিবিকে ওই টিমের দায়িত্ব নিতে গিয়ে লাস্ট দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটির মতো লস হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির প্রফিট করার কথা, লস করার কথা নয়। কাজেই আনটিল উই ফিক্স দিস, লস করে টুর্নামেন্ট করাটা ইম্পর্টেন্ট না।’

সাময়িক ক্ষতি মেনে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে লাভের মুখ দেখতে টুর্নামেন্টটি নতুনভাবে পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিসিবি সভাপতি উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও লাভজনক ক্রিকেট কাঠামো তৈরি করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। টুর্নামেন্ট পুনর্গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করে তিনি যুক্ত করেন, 'আমাদের ইনটেনশন ১০০০% আছে এটা করার। বাট আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি প্রপারলি করতে চাই, তাতে যদি ৬ মাস বা ১২ মাস সময় লাগে আমি নেব। আমার প্রাইওরিটি হলো পুরা জিনিসটাকে ফিক্স করা যাতে বিসিবি প্রফিট মেকিং করতে পারে।'

বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের প্রশাসনিক পদের গুরুত্ব উল্লেখ করে বিসিবি প্রধান জানান, নিজের দেশের লিগে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার দায়িত্বের সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো সমালোচনা সত্ত্বেও ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন। 

আন্তর্জাতিক দায়িত্বের প্রেক্ষাপট ও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তামিম ইকবাল বলেন, 'আইসিসি আমাকে একটা বড় রোল দিয়েছে যেখানে আমি ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির চেয়ারম্যান। আমার দেশে যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ঠিকভাবে না চলে, তবে সেটা স্টপ করে নতুন করে তৈরি করা আমার কমিটির জন্য একটা বড় মেসেজ হবে। আমি চেয়ারম্যান হয়ে যদি দেখি আমার নিজের দেশেই অনিয়ম চলছে, তবে সেটা বন্ধ করে সুন্দরভাবে রিভাইভ করাটাই বেটার অপশন। আমি আপাতত স্টপ করে পুরা জিনিসটাকে সুন্দর করে রিভাইভ করতে চাই।’