মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মুশফিকের অপেক্ষা, বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বাস্তবতা
৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল
প্রকাশ: 1 দিন আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মুশফিকের অপেক্ষা, বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বাস্তবতা
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মুশফিকের অপেক্ষা, বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন বাস্তবতা
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে এবার ছুঁয়ে গেছে ক্রিকেট অঙ্গনকেও। এই অস্থিরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সৌদি আরবের জেদ্দাতে আটকে পড়েন তিনি। আকাশপথে অনিরাপত্তার কারণে একাধিক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় হাজারো যাত্রীর সঙ্গে তাকেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনিশ্চিত সময়ের জন্য। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
মুশফিকের এই আটকে পড়া কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভোগের গল্প নয়, এটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ব্যবস্থার ভঙ্গুর বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান বিশ্বে একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদের চলাচল গভীরভাবে নির্ভরশীল বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ট্রানজিটের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আঞ্চলিক সংকটের কারণে এই রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া মানেই বিশ্ব ক্রিকেটের লজিস্টিক কাঠামোতে চাপ তৈরি হওয়া।
বর্তমানে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ম্যাচগুলো সংঘাতপ্রবণ এলাকায় না হলেও টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট অসংখ্য ব্যক্তি উপসাগরীয় ট্রানজিট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ম্যাচ অফিসিয়াল এবং সম্প্রচারকর্মীদের অনেকের ফেরার পরিকল্পনা এই অঞ্চল ঘিরেই। ফলে আকাশপথে অস্থিরতা বিশ্বকাপের আয়োজনে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও পরোক্ষভাবে লজিস্টিক ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের এই ইভেন্টের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তির নিরাপত্তা ও কল্যাণই আইসিসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা আমাদের ভ্রমণ, লজিস্টিকস ও নিরাপত্তা দলকে সক্রিয় করেছি এবং দিন-রাত কাজ করছি, যাতে সব অংশীজন নির্বিঘ্নে, নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরতে পারেন। পাশাপাশি যেসব দর্শক-সমর্থক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণ করেছেন বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের অনুরোধ করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশনা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতে এবং নতুন করে কোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণে যাওয়ার আগে সব বিষয় বিবেচনায় নিতে।’
মুশফিকুর রহিমের মতো একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিদেশে আটকে পড়া ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, ক্রীড়া ও রাজনীতি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা আজ ক্রীড়াবিদদের দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ। ক্রিকেট অতীতে বহুবার ভূরাজনৈতিক প্রভাবের মুখে পড়েছে। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন কিংবা নিরাপত্তা শঙ্কায় সফর বাতিলের নজির রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই ইতিহাসকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে এই অনিশ্চয়তা সাময়িক হয়েই শেষ হতে পারে। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট পরিকল্পনায় ঝুঁকি মূল্যায়নের ধরণ বদলাতে পারে। বহুমুখী ট্রানজিট পরিকল্পনা ও বিকল্প ভ্রমণ কাঠামো হয়তো আরও গুরুত্ব পাবে। মুশফিকের জেদ্দায় অপেক্ষা তাই কেবল এক ক্রিকেটারের বাড়ি ফেরার গল্প নয়, এটি বৈশ্বিক ক্রীড়া রাজনীতির জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন।
