সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বরাদ্দ, স্থানীয় খেলাধুলার অস্তিত্বের প্রশ্ন

৯৭ প্রতিবেদক: মোহাম্মদ আফজল

প্রকাশ: 1 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বরাদ্দ, স্থানীয় খেলাধুলার অস্তিত্বের প্রশ্ন

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বরাদ্দ, স্থানীয় খেলাধুলার অস্তিত্বের প্রশ্ন

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বরাদ্দ, স্থানীয় খেলাধুলার অস্তিত্বের প্রশ্ন

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম বাফুফের একক বরাদ্দে ক্রিকেট, হকি ও অন্যান্য খেলাধুলা সংকটে; বিকল্প ব্যবস্থা না হলে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

সম্প্রতি সিলেট জেলা স্টেডিয়াম আগামী ২৫ বছরের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর কাছে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। কাগজে-কলমে এটি হয়তো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু বাস্তবে এটি সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক গভীর উদ্বেগের বিষয়।

সিলেট জেলা স্টেডিয়াম কেবল ফুটবল মাঠ নয়; এটি জেলা ও বিভাগীয় হকি, ক্রিকেট, স্কুল ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টসহ প্রায় সব খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্র। স্বাধীনতার পর থেকে এই মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সব খেলাই ভাগাভাগি করেই আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই সহাবস্থানেই সিলেটের ক্রীড়াঙ্গন টিকে ছিল।

কিন্তু অতীতে যখন এই মাঠ এককভাবে ফুটবলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তখন ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলা দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে মাঠের ব্যবস্থা করতে হতো। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি আবারও ঘটতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।

সাবেক ক্রিকেটার মোস্তফা কামাল পাশা মওদুদ বলেছেন, “সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে বিকল্প কোনো মাঠ নেই। আজ ক্রিকেটকে বাধা দিলে আগামীতে অন্য খেলাও একই ধরনের বৈষম্যের শিকার হবে।” স্থানীয় ক্রিকেট কোচ নাসির বকস আরও যোগ করেছেন, “মাঠ যদি না থাকে, আমি বা আপনি কেউই থাকবো না। আমাদের পরিচয় এই জেলা মাঠ দিয়ে। ক্রিকেট, ফুটবল, হকিসহ সকল খেলাকে বাঁচাতে হবে।”

বাফুফে চাইলে নতুন মাঠ নির্মাণ করতে পারে, কিন্তু সিলেট জেলা স্টেডিয়ামকে এককভাবে বরাদ্দ দিয়ে অন্য খেলাগুলোর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা যায় না। মানসম্মত মাঠ ও উইকেটের অভাবে ইতোমধ্যেই সিলেট জাতীয় পর্যায়ে পিছিয়ে আছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ক্রিকেট, হকি ও অন্যান্য খেলাধুলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সিলেটের ক্রীড়া কেবল একটি খেলার সম্পত্তি নয়; এটি সমগ্র এলাকার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়ের প্রতীক। এই মাঠের গুরুত্ব, ইতিহাস ও বহুমাত্রিক ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা। স্থানীয় খেলাধুলার স্বার্থ রক্ষা করতে বিকল্প মাঠ এবং অবকাঠামো নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সিলেটের খেলাধুলা সংরক্ষণে এখনই সকল ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড় এবং সাধারণ ক্রীড়ামোদীদের একযোগে প্রতিরোধ করতে হবে। অন্যথায়, একক বরাদ্দের ফলশ্রুতিতে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গন দীর্ঘকালীন ক্ষতির মুখে পড়বে।