জেন-জি ক্রিকেটারদের বুঝেই কোচিংয়ে মানিয়ে নিচ্ছেন সালাহউদ্দিন, রানাকে না পাওয়ায় আক্ষেপ
জেন-জি ক্রিকেটারদের বুঝেই কোচিংয়ে মানিয়ে নিচ্ছেন সালাহউদ্দিন, রানাকে না পাওয়ায় আক্ষেপ
জেন-জি ক্রিকেটারদের বুঝেই কোচিংয়ে মানিয়ে নিচ্ছেন সালাহউদ্দিন, রানাকে না পাওয়ায় আক্ষেপ
ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের। তবে হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) বিভাগের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মানসিকতা বোঝা। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ের তরুণদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলেই তাদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে জাতীয় দলের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এইচপি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সালাহউদ্দিন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এখন যেহেতু এইচপিএতে এসেছি, তারা আমার চেয়ে চার প্রজন্ম পেছনে। এখন আমাকে মানিয়ে নিতে হবে। কোচিংয়ের কিন্তু এটা একটা বড় দিক যে, কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছি। কারণ, তারা এখন জেন-জি প্রজন্মের। তারা মোবাইলের যুগের। তাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। নাহলে তাদের সঙ্গে কোচিং করা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।’
জাতীয় দল, বিপিএল কিংবা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও এইচপিতে তার কাজের পরিধি ভিন্ন। এখানকার অধিকাংশ ক্রিকেটারই বয়সে তরুণ এবং ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকায় তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা দেখলে হয়তো আমাকে একটু ভয় পেতে পারে। সালাউদ্দিন স্যার এসেছে। একটা দূরত্ব থাকবেই। তবে তাদের সঙ্গে মানিয় নিয়ে কীভাবে তাদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করতে পারি, সেটাই লক্ষ্য থাকতে হবে।’
যদিও এখন এইচপি বিভাগের দায়িত্বে বেশি সময় দিচ্ছেন, তবু জাতীয় দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়নি। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সালাহউদ্দিন মনে করেন, খেলোয়াড়ের বয়স বা অভিজ্ঞতা নয়, কোচিং করাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের জায়গা। সেই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দিনশেষে আমি যে চাকুরিটা করি, আমি তো কোচিং করাই। তো কোচ হিসেবে আমার আসলে আমি যদি কোচিং মাঠে থাকতে পারি, কোচিং করাতে পারি বাচ্চাদের, যার সঙ্গেই করি, আমি এটা সবসময় উপভোগ করি। আমার এতো ইগো নেই যে আমাকে সেরকম বড় খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। তবে একটা জিনিস আমার মনে রাখতে হবে যে, আমি যে প্রজন্মের, তার পরের দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারব।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন সালাহউদ্দিন। শুরুতে তার চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত। পরে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত করা হয়।
এদিকে সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে ঘিরেও নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। চোটের কারণে পেসার নাহিদ রানা দলে না থাকায় কিছুটা হতাশ এই কোচ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বিপক্ষে রানার গতির বোলিং ও বাউন্সার দেখার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। নিজের সেই আক্ষেপ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে নাহিদ রানাকে নিয়ে আমিও খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম। কবে দেখব রানা অসিদের ব্যাটারদের আসলে বাউন্সার মারতেছে। খেলার অন্যরকম একটা রোমাঞ্চ থাকত। যেহেতু হয়নি, এখানে আফসোস করে লাভ নেই। তবে আমার মতে অন্য বোলার যারা আছে, তারাও যদি একটু বুদ্ধি করে বোলিং করতে পারে, আমার মতে তারাও অনেক ভালো করবে।’
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকেতে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থানে থাকলেও ভালো অবস্থানে থেকেই সিরিজে নামবে বাংলাদেশ।
