সাংবাদিকদেরই প্রশ্ন করলেন শান্ত, তারপর জানালেন অস্ট্রেলিয়া সফরের লক্ষ্য

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ: 9 ঘন্টা আগে আপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
সাংবাদিকদেরই প্রশ্ন করলেন শান্ত, তারপর জানালেন অস্ট্রেলিয়া সফরের লক্ষ্য

সাংবাদিকদেরই প্রশ্ন করলেন শান্ত, তারপর জানালেন অস্ট্রেলিয়া সফরের লক্ষ্য

সাংবাদিকদেরই প্রশ্ন করলেন শান্ত, তারপর জানালেন অস্ট্রেলিয়া সফরের লক্ষ্য

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সামনে অপেক্ষা করছে এক ঐতিহাসিক সফর। প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই সফরকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনা ও প্রত্যাশা তুঙ্গে। তবে সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটীয় আলোচনা শুরুর আগেই ভিন্ন এক মুহূর্তের জন্ম দিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে উল্টো সাংবাদিকদের কাছেই জানতে চাইলেন তাদের প্রত্যাশার কথা।

 

অনুশীলন শেষে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এসে নিজের আসনে বসেই শান্ত উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আমার একটা প্রশ্ন আছে সবার কাছে। আপনারা তো অনেক বছর ধরে ক্রিকেট কাভার করেন। এই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আপনারা কী প্রত্যাশা করছেন যে আমাদের দল কেমন করবে? এখানে অনেক সিনিয়র সাংবাদিক আছেন যারা অনেক বছর ধরে লেখালেখি করছেন, আপনাদের কাছ থেকে দুই-একজন একটু বলবেন প্লিজ।’

 

অধিনায়কের এমন প্রশ্নে মুহূর্তেই হালকা হয়ে ওঠে সংবাদ সম্মেলনের পরিবেশ। প্রথমে একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে আসে সংক্ষিপ্ত উত্তর—‘ভালো খেলা।’ কিন্তু সেই উত্তরেই সন্তুষ্ট হননি শান্ত। মুচকি হেসে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘এই উত্তর আমি দিলে পছন্দ হতো?’ পরে আরেক সাংবাদিক বলেন, ‘একটা ড্র হলে আমরা মনে হয় কিছুটা খুশি হতে পারি।’ সেই জবাবে শান্ত হেসেই বলেন, ‘ড্র-র উত্তরটা ভাই বেশ ভালো দিয়েছেন। ধন্যবাদ, মজা করলাম একটু।’

 

হালকা রসিকতার পরই আলোচনার মোড় ঘুরে যায় অস্ট্রেলিয়া সফরের গুরুত্বের দিকে। দীর্ঘ বিরতির পর শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে যাওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। একই সঙ্গে এই সফরকে ভবিষ্যতে আরও বেশি সুযোগ পাওয়ার পথ তৈরি করার মঞ্চ বলেও মনে করছেন তিনি। শান্ত বলেন, 

 

‘খুবই ভাগ্যবান মনে করছি যে, অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে তাদের সাথে টেস্ট খেলতে পারছি। গত ২৩ বছরে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। আমরা যদি আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতাম, তাহলে হয়তো আরও বেশি সুযোগ হতো। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলা এবং সম্মান অর্জন করা। যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে পারি, অবশ্যই তারা ভবিষ্যতে আবার আমন্ত্রণ জানাবে। প্রতিটি ম্যাচই জেতার জন্য খেলি, তবে ওদেরকে কতটুকু টাফ টাইম দিতে পারি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

 

ইনজুরির কারণে নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও লিটন দাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের না পেলেও দল নিয়ে কোনো আক্ষেপে ভুগছেন না শান্ত। বরং যাদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন, তাদের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। 

 

তিনি বলেন, ‘ইনজুরির বিষয়টা আসলে আমাদের কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। যেকোনো সময় যেকোনো খেলোয়াড় ইনজুরড হতে পারে। তবে আমার মনে হয় যে দলটা আমাদের অস্ট্রেলিয়াতে যাচ্ছে, এই দলের ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস আছে যে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। কোন খেলোয়াড় থাকলে ভালো হতো বা আরও বেটার হতো, এগুলো নিয়ে চিন্তা করাটা এখন যৌক্তিক হবে না। আমার মনে হয় কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এই দলটা নিয়ে এবং দলের ওপর কতটুকু বিশ্বাস রাখতে পারি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ, যা আমার আছে।’

 

গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে উন্নতির ধারা দেখিয়েছে, সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চান শান্ত। অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গত কিছু বছর ধরে যেভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলছি, চেষ্টা করব সেভাবেই খেলার। কন্ডিশন ভিন্ন হবে, তাই যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে হবে। আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। টেস্ট দলটা একটা ভালো অবস্থানে আছে। এই জায়গা থেকে আমরা যেন নিচের দিকে না যাই এবং সামনে আরও কীভাবে উন্নতি করতে পারি, সেটাই মূল লক্ষ্য থাকবে।’

 

বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি সমর্থকদের প্রত্যাশা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলেও মনে করেন শান্ত। তার মতে, এটাই প্রমাণ করে দেশের ক্রিকেট কতটা এগিয়েছে। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও জয়ের জন্যই খেলবে বাংলাদেশ। শান্ত বলেন, ‘এটা ভালো যে দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়েছে। তারা চায় আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিতি, যা একটি ইতিবাচক দিক। ২৩ বছর আগে হয়তো এই জিনিসটা ছিল না। এটা একটা বড় অর্জন যে, এখন বাংলাদেশের মানুষ যে কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের কথা চিন্তা করে। আমাদের চেষ্টা থাকবে কন্ডিশন মানিয়ে নিয়ে জয় ছিনিয়ে আনার।’