প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ
প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ
প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ
মিরপুরে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে বৃষ্টি আইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ম্যাচ থেমে গেলেও ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
মঙ্গলবার শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম লড়াইয়ে আগে ব্যাট করে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। সেই পুঁজির ভিত গড়ে দেন মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম, তিনজনই তুলে নেন অর্ধশতক।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের শিকার হন ম্যাথু শর্ট। এরপর মুস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মার্নাস লাবুশান। মাত্র ৯১ রানেই ৪ উইকেট হারায় অজিরা।
জস ইংলিসকে আউট করেন নাহিদ রানা। পরে মোসাদ্দেক হোসেন বোল্ড করেন কুপার কনোলিকে। অ্যালেক্স ক্যারি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ৪৭ রানে তার ইনিংস থামিয়ে দেন নাহিদ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ক্যামেরুন গ্রিন।
৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান থাকা অবস্থায় বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।
১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। এছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচায় শিকার করেন ২ উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে এই সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ । ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৫ রান।
টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক জস ইংলিশ। শুরু থেকেই চাপের মধ্যে পড়ে স্বাগতিকরা। ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ১০ রানের মধ্যেই প্রথম উইকেট হারায় দল। ৫ বলে ৫ রান করে আউট হন সাইফ হাসান।
এরপর ইনিংস গুছিয়ে নেন ওপেনার তানজিদ তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটি গড়ে দলকে স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যান।
৫৪ রান করে ফেরেন তানজিদ তামিম। এরপর শান্ত ইনিংস এগিয়ে নিলেও বড় সংগ্রহে রূপ দিতে পারেননি। ৬৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
মাঝের ওভারে একের পর এক উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা বড় স্কোর করতে ব্যর্থ হন।
এই পরিস্থিতিতে ইনিংসের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুজন মিলে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। ধীরগতির ইনিংস খেলেন তাওহীদ হৃদয়। ৩১ রান করতে তিনি খেলেন ৫১ বল।
মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৭০ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ ১৬ বলে ২০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন।
